চাকরির পরামর্শ

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার পদের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

লেখকঃ মো. মাজহারুল হাসান নাহিদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) পদে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪ হাজার ৫২৮ জন। ১৮ আগস্ট এ পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো নিতে হলে পরিশ্রমী ও কৌশলী হতে হবে। কীভাবে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা যেতে পারে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. মাজহারুল হাসান নাহিদ।

টেকনো ইনফো বিডি'র প্রিয় পাঠকঃ নিয়মিত চাকরির আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজ, টেলিগ্রাম চ্যানেল, লিংকডইন এবং গুগল নিউজ এ লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

যেহেতু ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষাতেই মূলত নির্ধারিত হয়ে যায় এক পরীক্ষার্থীর চাকরির ভাগ্য। তাই লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ভালো করার কোনো বিকল্প নেই। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে পারলে চাকরি পাওয়ার পাশাপাশি মেধাক্রম সামনের দিকে থাকবে, যা একজন অফিসারকে দ্রুত পদোন্নতি পেতে সাহায্য করবে।

বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার পদের ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় সময় থাকে দুই ঘণ্টা। বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির শুরুতেই কোন কোন বিষয়ে প্রশ্ন হয়ে থাকে, তা জানতে হবে। সিলেবাস অনুযায়ী টপিক ধরে ধরে প্রস্তুতি নিতে পারলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে পুরো সিলেবাসকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। সেগুলো হলো ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, কম্প্রিহেনশন ও অনুবাদ।

১. ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং

যদিও ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং নামে বাংলাদেশ ব্যাংক বা যেকোনো ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষায় কোনো প্রশ্ন আসে না। কিন্তু প্রশ্ন একটু বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, ব্যাংকের পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের মধ্যে ১০০ নম্বরই আসে মূলত ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং থেকে। লিখিত পরীক্ষায় ৩৫ নম্বরের একটি বাংলা ফোকাস এবং ইংরেজিতে ৩৫ নম্বরের আরেকটি ফোকাস লিখতে হয়, পাশাপাশি আর্গুমেন্টে থাকে ৩০ নম্বর। এই মোট ১০০ নম্বরে ভালো করতে হলে ফ্রি হ্যান্ড রাইটিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। ফ্রি হ্যান্ড রাইটিংয়ে দক্ষ হতে চাইলে নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা পড়ে ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং চর্চা করতে হবে। ফোকাস রাইটিংয়ে ভালো করতে হলে অবশ্যই পয়েন্ট, হেডিং, সাব হেডিং, প্যারা, কোটেশন, স্পষ্ট হাতের লেখা, ডেটা ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে ফোকাসটির উত্তর করতে হবে। পাশাপাশি আর্গুমেন্টে ভালো করতে হলে নিজের বিবৃতির সপক্ষে সুন্দর যুক্তি দিতে হবে।

বিগত কয়েকটি পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বিষয়গুলো থেকেই মূলত পরীক্ষায় ফোকাস ও আর্গুমেন্ট এসে থাকে। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন, সমস্যা, ব্যাংকিং—এই তিনটি টপিক থেকেই বেশি প্রশ্ন আসে। বাংলা ও ইংরেজি ফোকাসের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরীক্ষা দেওয়ার আগে দেখে যেতে হবে। এ ছাড়া এসব বিষয় থেকে আর্গুমেন্টও পরীক্ষায় আসতে পারে। এ রকম কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে তুলে ধরা হলো।

ক। বাংলাদেশের উন্নয়নসংক্রান্ত ফোকাস

বাংলাদেশের উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়ের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পোশাকশিল্প, আর্থসামাজিক অগ্রগতি, এলডিসি থেকে উত্তরণ, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা, ডেমোগ্রাফিক ডিফিডেন্ড, নারীর ক্ষমতায়ন, নবায়নযোগ্য শক্তি, ব্লু ইকোনমি ইত্যাদি টপিকগুলো খুব ভালোভাবে পড়তে হবে।

খ। সমস্যাসংক্রান্ত ফোকাস

ব্যাংকের পরীক্ষায় অধিকাংশ সময়েই বিভিন্ন সমস্যাসংক্রান্ত ফোকাস রাইটিং পরীক্ষায় আসতে দেখা যায়। এই ভাগে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকঋণ খেলাপি, খাদ্যনিরাপত্তা, ডলার-সংকট, রিজার্ভ-সংকট, ডেঙ্গু সমস্যা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা ইত্যাদি বিষয় বিস্তারিত পড়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে।

গ। ব্যাংকিং এবং আইটি-সংক্রান্ত ফোকাস

অনেক সময় দেখা যায়, ব্যাংকিং অথবা আইটি-সংক্রান্ত ফোকাস পরীক্ষায় চলে আসে। এই টপিকের মধ্যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, গ্রিন ব্যাংকিং, ব্যাংকিং খাতে সাইবার সিকিউরিটি, ফিনটেক, ক্যাশলেস সোসাইটি, আর্থসামাজিক খাতে ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ের ফোকাস বাংলা ও ইংরেজিতে অবশ্যই পড়তে হবে।

ঘ। আর্গুমেন্ট

আর্গুমেন্টে সামাজিক বিতর্কিত বিষয়গুলো পরীক্ষায় আসে। এ ক্ষেত্রে কোনো টপিকের পক্ষে-বিপক্ষে কিংবা উভয় পক্ষে পরীক্ষায় প্রশ্ন অনুযায়ী লিখতে হতে পারে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টাকা মুদ্রায় বাণিজ্য ইত্যাদিসহ গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়াবলিসহ যেসব বিষয়ে বিতর্ক হতে পারে, এমন টপিকগুলো খুব ভালোভাবে পড়তে হবে।

২. গণিত

গণিত অংশে ৬ নম্বর করে মোট ৩০ নম্বরের ৫টি গণিত থাকে। গণিতে একটু চেষ্টা করলেই একজন পরীক্ষার্থী ৩০ নম্বরই পেতে পারেন। গণিতে পূর্ণ নম্বর পেলে অনেক বেশি এগিয়ে থাকা যায়। সাধারণত এসএসসি লেভেলের গণিতগুলো ইংরেজিতে পরীক্ষায় এসে থাকে। গণিত অংশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো হলো—পাটিগণিতের মধ্যে সরল-যৌগিক মুনাফা, ঐকিক নিয়ম, গড়, বয়স, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত, ট্রেন, নৌকা, চৌবাচ্চাসংক্রান্ত গণিত, শতকরা, বীজগাণিতিক অংশে মান নির্ণয়, সূত্র, সমীকরণ, প্রমাণ, লগ, পরিমিতি অংশের ক্ষেত্রফল, পরিসীমা, আয়তন ও জ্যামিতির বেসিক বিষয়ের গণিতগুলো অবশ্যই অনুশীলন করে পরীক্ষার হলে যেতে হবে।

৩. সাধারণ জ্ঞান

সাধারণ জ্ঞান অংশে প্রতিটি প্রশ্নে ২ নম্বর করে মোট ১৫টি প্রশ্নে ৩০ নম্বর থাকে। এ অংশের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বিখ্যাত সব ব্যক্তি, বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম, ভৌগোলিক বিষয়, খেলাধুলা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, মুদ্রা, রাজধানী, পরিবেশসংক্রান্ত বিষয়, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বিবিএস রিপোর্ট, ব্যাংক খাতের বিভিন্ন মান, বাজেট, শেয়ারবাজার, বিখ্যাত সম্মেলন, অ্যাব্রিভিয়েশন, যুদ্ধ, ব্যাংকিং টার্ম, অর্থনৈতিক সংগঠন ইত্যাদি পড়তে হবে। পাশাপাশি গত ছয় মাস থেকে বর্তমান সময়ের সাম্প্রতিক তথ্যগুলোও পড়তে হবে।

৪. কম্প্রিহেনশন

লিখিত পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের একটি ইংরেজি কম্প্রিহেনশন আসে। সাধারণত একটু বড় আকারের কম্প্রিহেনশন পরীক্ষায় এসে থাকে। কম্প্রিহেনশন থেকে প্রতিটি ৫ নম্বর করে ৬টি প্রশ্নে মোট ৩০ নম্বর থাকে। এ অংশে ভালো করতে হলে অবশ্যই পরীক্ষার্থীকে দ্রুত ইংরেজি পড়ার ও বোঝার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পরীক্ষায় যেহেতু সময় কম থাকে, তাই দ্রুত প্যাসেজটি পড়ে বুঝতে না পারলে প্যাসেজ থেকে যেসব প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে, তা উত্তর দেওয়া যায় না। প্যাসেজ ভালোভাবে বুঝতে হলে নিয়মিত ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা পড়া যেতে পারে।

৫. অনুবাদ

পরীক্ষায় ইংরেজি থেকে বাংলায় একটি অনুবাদ করতে হয়। অনুবাদে ১০ নম্বর বরাদ্দ। অনুবাদ অংশে ভালো করতে হলে ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ পড়ার পাশাপাশি নিয়মিত ইংরেজি ও বাংলা দৈনিক পত্রিকা পড়ে সেখান থেকে চর্চা করতে হবে। তাহলে অনুবাদে নিজের দক্ষতা চলে আসবে। অনুবাদে ভালো করতে হলে ইংরেজি বোঝার দক্ষতা বাড়াতে হবে। সাধারণত সাম্প্রতিক কোনো বিষয় থেকেই পরীক্ষায় অনুবাদ আসে। এর পাশাপাশি অর্থনীতি, ব্যাংক, জলবায়ু, যুদ্ধ, উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়ে অনুবাদগুলো বেশি বেশি অনুশীলন করা যেতে পারে।

Leave a Reply

Back to top button